মুকসুদপুর উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঞ্জাপুর ও ধোপাকান্দি সংযোগ সেতুর এলাকায় এক সুন্নতে খৎনা অনুষ্ঠানে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে ধোপাকান্দি গ্রামের ইনান শেখের বাড়িতে তার ছেলে আবুল আসাদ শেখের (৭) সুন্নতে খৎনার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে পাশের খাঞ্জাপুর গ্রামের পলাশ মোল্যার ছেলে নাজিম মোল্লা মোবাইলে অনুষ্ঠানটির ভিডিও ধারণ করছিলেন। এসময় ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে ইনান শেখের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে নাজিম মোল্লার বাকবিতণ্ডা হয়।
এই ঘটনার সূত্র ধরে শনিবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন উজানী বাজারে এসে একে অপরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি করেন। পরে কথাকাটাকাটির উত্তেজনা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। দুই পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিল। সংঘর্ষের কারণে দুই গ্রামের অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ধোপাকান্দি গ্রামের লিটন শেখ, হিরন শেখ, আবুল হাসান শেখ, মিজানুর শেখ এবং খাঞ্জাপুর গ্রামের সাইফুল মোল্লা ও মাহাবুব মোল্লা রয়েছেন।
মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ইত্তেফাককে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা মূলত ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও পরে এটি বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। আহতদের মধ্যে কেউ আশঙ্কাজনক অবস্থায় না থাকলেও হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এই ধরনের ঘটনা এলাকায় সামাজিক ভাঙন এবং পারস্পরিক আস্থা কমানোর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

