জাবেদ শেখ, (শরীয়তপুর প্রতিনিধি):
এক যুগের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছে মেঘনা নদীর ওপর শরীয়তপুর–চাঁদপুর নৌপথে দেশের প্রথম ক্যাবল-স্টেড (cable-stayed) ও সর্ববৃহৎ ঝুলন্ত সেতু। ৮.০৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই চার-লেন সেতু নির্মাণ একদিকে হবে যোগাযোগ বিপ্লব, অন্যদিকে থাকবে চমকপ্রদ প্রযুক্তিগত নির্মাণ।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সেতু তিন ধাপে নির্মিত হবে। প্রধান স্প্যান থাকবে ২১ হাজার মিটার (২১ কিমি নয়, ২১ শত মিটার) দৈর্ঘ্যে। নাব্যতা ও নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে রূপায়ন করা হয়েছে — মাঝ বরাবর স্প্যান ৭ শত মিটার, দুই পাশে ৪ শত ও ৩ শত মিটার। পানির স্তর থেকে সেতুর উচ্চতা থাকবে ৩০ মিটার।
২০২২ সাল থেকেই শুরু হয়েছে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, যেখানে পরিবেশ, নদী ভাঙন ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ক বিশ্লেষণ ইতিবাচক ফল দেখিয়েছিল।
মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫,৯৫৭ কোটি টাকা। অর্থায়নে অগ্রণী অংশ নেওয়া হবে দক্ষিণ কোরিয়ার EDCF (Economic Development Cooperation Fund) ও জাপানের সেভেন প্ল্যাটফর্মের দ্বারা।
এই সেতু বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চালিত যানবাহনের চাপ কমে যাবে, দক্ষিণ-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠবে। ৬৭ কিলোমিটার পথ হ্রাস ও ফেরি পারাপারের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কাটিয়ে উঠবে। প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ মানুষ এই সেতুর দ্বারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
একজন পণ্যবাহী ট্রাকচালক ইদ্রিস মিয়া জানিয়েছেন,ফেরি পারাপার ভোগান্তি ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সেতু হলে আমাদের জীবন বদলে যাবে।
বণিক দেলোয়ার বেপারী বলছেন,বন্দর টু বন্দর সরাসরি যোগাযোগে ব্যবসা অনেক সহজ হবে।
সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক মা. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী বলেন,এটি পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রকল্প।
সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান,সেতুটি দেশের যোগাযোগ ও অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে।

