চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (সিইপিজেড) আগুনে পুড়ে যাওয়া ভবনটির আগ্নিনিরাপত্তা সনদ ছিল না বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ভবনের সপ্তম তলা থেকে। প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরও সময় লাগবে বলে ফায়ার সার্ভিস জানায়।
তাজুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন,
“ফায়ার সেফটি প্ল্যানের (অগ্নিনিরাপত্তা পরিকল্পনা) আবেদন করা হয়েছিল, তবে নিয়ম অনুযায়ী এখনও পরিদর্শন হয়নি। তার আগেই দুর্ঘটনা ঘটে গেছে।”
তিনি আরও জানান, ভবনটিতে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ভবনের দুই পাশে আগুন নেভানোর সুযোগ ছিল না। অন্য দুই পাশ থেকে চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা হয়। এছাড়া নিয়ম অনুযায়ী, ভবনের আশপাশে যে ন্যূনতম জায়গা রাখতে হয়, তা দুই পাশে ছিল না।
স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভবনের সব তলায়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের তাপ আশেপাশের কয়েকশো মিটার পর্যন্ত অনুভূত হয়। কিছু সময় ভিতরে ছোট ছোট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। এই কারণে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাছে যেতে পারেননি এবং দূর থেকে পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাতে হয়।
অগ্নিকাণ্ডের সময়ে পাশের তিনতলা ভবনেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস আশেপাশের ভবনগুলোতে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে আগুন নিয়ন্ত্রণের কিছুটা আশা দেখা দেয়। তবে বৃষ্টির তীব্রতা কমলে আগুন আবারও বৃদ্ধি পায়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনের ভেতরে দাহ্য পদার্থ ছিল, যার মধ্যে বিভিন্ন রাসায়নিক ও কাঁচামাল অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে আগুনের নির্দিষ্ট সূত্রপাত তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।
ভেতরের দাহ্য কাঁচামালের বিষয়টি স্বীকার করেছেন জিহং মেডিকেল প্রোডাক্টস (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বোরহান উদ্দিন তামিম। তিনি জানান,
“ভেতরে রপ্তানির জন্য ১০ কনটেইনার তৈরি সার্জিক্যাল গাউন এবং ২০ কনটেইনার গাউন তৈরির কাঁচামাল (ফেব্রিকস) ছিল, যা কিছুটা দাহ্য। তাই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে গেছে।”
ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিজিবিও কাজ করেছে।

