মোহাম্মদ মাসুদ মজুমদার,
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মহিষ বাংলাদেশের সম্পদ, কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। মহিষের দই ইতোমধ্যে দেশের একটি জিআই (Geographical Indication) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সরকার মহিষের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে এই অবহেলা আর না ঘটে।
তিনি বলেন, “মহিষের দুধ থেকে শুধু দই নয়, চিজসহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হলে খামারিদের নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এসব পণ্য রপ্তানিযোগ্য হিসেবেও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।”
বুধবার সকালে সাভারের মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামারে বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘বৈজ্ঞানিক সম্মেলন–২০২৫’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, “কৃষি ও প্রাণিসম্পদ একে অপরের পরিপূরক। কিন্তু এখন অনেকেই খাদ্য উৎপাদন বলতে শুধু কৃষিকেই বোঝেন। কৃষিক্ষেত্রে কীটনাশক ও আগাছানাশকের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় গরু, ছাগল ও মহিষের চারণভূমি সংকুচিত হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির নামে মহিষের চারণভূমি হারিয়ে যাওয়া মোটেও কাম্য নয়।”
তিনি কীটনাশক ব্যবহারে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং কৃষি-প্রাণিসম্পদ সমন্বিত খাদ্য উৎপাদন পরিকল্পনার ওপর জোর দেন।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা আরও বলেন, “গবাদিপশুর তালিকায় মহিষকে যথাযথভাবে স্থান দেওয়া হয়নি। প্রাণিসম্পদ খাতে মহিষের গুরুত্ব এখনো অবমূল্যায়িত। দেশে মহিষের সংখ্যা কমে যাওয়া উদ্বেগজনক; চারণভূমির অভাব মহিষ পালনের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ বাফেলো অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রফেসর ড. মো. ওমর ফারুক। গেস্ট অব অনার ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আখতার, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
সম্মেলনে ড. প্রীতিশ ভারতের হরিয়ানার প্রান্তিক কৃষকের দৃষ্টিকোণ থেকে মুরাহ মহিষ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ড. হিরন্ময় বিশ্বাস ইটালির দুধ উৎপাদন ব্যবস্থা ও বাংলাদেশের সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে টেকসই মহিষ দুধ উৎপাদনের সম্ভাবনা উপস্থাপন করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ড. গৌতম কুমার দেব।
সম্মেলনে বিজ্ঞানী, সরকারি ও বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কৃষক প্রতিনিধি এবং মহিষ সেবাদানকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
পরে দুপুরে উপদেষ্টা সাভারে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামার চত্বরে নবনির্মিত কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি ল্যাবরেটরির বিভিন্ন কার্যক্রম ও আধুনিক সুবিধা পরিদর্শন করেন। এসময় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের পরিচালক মো. শাহজামান খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

