দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর বিরলের ধর্মপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী অসহায় ও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ—বিজিবি।
আজ শনিবার সকাল দশটায় বিরল উপজেলার সীমান্ত ঘেষা দক্ষিণ মেরাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দিনাজপুর সেক্টর এবং ৪২ বিজিবির উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা কর্মসূচিপালন করা হয়।
স্থানীয় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ৩০০ জন শীতার্ত মানুষের মাঝে ৩০০টি কম্বল এবং শিশুদের জন্য অতিরিক্ত ১০০টি পোশাক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ মানুষকে দেওয়া হয় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।
দিনাজপুর বিজিবি সেক্টর কমান্ডার
কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান উপস্থিত থেকে নিজ হাতে শীতার্ত মানুষের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ করেন এবং হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থাও করেন।
তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন—
“বিজিবি শুধু সীমান্ত রক্ষা নয়, সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও বিশ্বাসের বন্ধন তৈরি করতেও কাজ করছে। শীতে কষ্টে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে। সীমান্ত এলাকার প্রতিটি মানুষই আমাদের পরিবারের সদস্য।
রোকসানা বেগম বলেন,আমরা সীমান্তে থাকি, এখানকার জীবন অনেক কষ্টের। শীতে বাচ্চাদের নিয়ে খুব সমস্যা হয়। আজ কম্বল আর বাচ্চার জামা পেয়ে অনেক উপকার হলো। বিজিবির কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।
তানিয়া আক্তার বলেন, শীতের জন্য পড়াশোনাও ঠিকমতো করা যাচ্ছিল না। আজ বিনামূল্যে চিকিৎসা আর ওষুধ পেলাম। খুব দরকার ছিল। এমন আয়োজন আমাদের জন্য অনেক বড় সহায়তা।
.কৃষক আব্দুল কাদের সকালে মাঠে কাজ করতে গেলে হাড়কাঁপানো শীত। কম্বলটা পেয়ে অনেক স্বস্তি লাগছে। চিকিৎসকরাও ভালোভাবে পরীক্ষা করে দিলেন।
শ্রমিক আবু মুসা বলেন, আমরা যারা দিনে আনি দিনে খাই, শীতে কম্বল কেনা অনেকেরই পক্ষে হয় না। আজ সাহায্য পেয়ে মনে হচ্ছে কেউ আমাদের কথা ভাবছে।”
স্থানীয় মুদি দোকানদার মিজানুর রহমান বলেনবিজিবি শুধু নিরাপত্তা দেয় না, মানুষের পাশে দাঁড়ায়—এটা আজ আবার দেখলাম। গ্রামের সবাই খুশি।
চা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ডাক্তারের কাছে যেতে হয় দূরে। এখানে এসে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলাম। শীতের সময় এসব সেবা খুব দরকার।
দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রঞ্জু বলেন,মানবিক এই উদ্যোগকে ঘিরে দক্ষিণ মেড়াগাঁও এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। কম্বল পেয়ে হাসি মুখে ঘরে ফিরেছেন অসহায় মানুষগুলো। সীমান্ত অঞ্চলে বিজিবির এই সহযোগিতা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

