বিসিবি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। নিয়ম ও প্রজ্ঞাপনের ধারা উপেক্ষা করে ভোটার তালিকা ২৪ ঘণ্টা পরে প্রকাশ করা হয়। সাবেক বিসিবি পরিচালক ও জামালপুর জেলার কাউন্সিলর রেদওয়ান ফুয়াদ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশন নিজস্ব নিয়ম ভেঙে কাজ করছে।
তাঁর বক্তব্য, “বিসিবির গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে ১৫টি ক্লাবের কাউন্সিলরকে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নেই।”
নির্বাচন কমিশন এই সিদ্ধান্তে দুদকের (দুর্নীতি দমন কমিশন) পর্যবেক্ষণকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে সোমবার নির্ধারিত সময়ের বাইরে ফরম জমা দিলেও কাউন্সিলর পদ পেয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ফারুক আহমেদ। ক্লাব ক্রিকেট সংগঠকদের মতে, এটি নির্বাচনে অনিয়মকে বৈধতার আভাস দিচ্ছে।
২০ সেপ্টেম্বর বিসিবি পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দুদকের পর্যবেক্ষণে থাকা ১৪টি ক্লাব আইনগতভাবে নিষিদ্ধ না হওয়ায় তাদের কাউন্সিলরশিপ বহাল থাকবে। নির্বাচনী কমিশন ১৮ সেপ্টেম্বর বিসিবিকে চিঠি পাঠিয়ে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত চায়।
২০ সেপ্টেম্বর পরিচালনা পর্ষদ গঠনতন্ত্রের ধারা ১০.১ অনুযায়ী নিম্নলিখিত ১৪টি ক্লাবের কাউন্সিলরশিপ বৈধ ঘোষণা করে: এক্সউম ক্রিকেটার্স, ঢাকা ক্রিকেট একাডেমি, মোহাম্মদপুর ক্রিকেট ক্লাব, নবাবগঞ্জ ক্রিকেট কোচিং একাডেমি, পূর্বাচল স্পোর্টিং ক্লাব, গুলশান ক্রিকেট ক্লাব, ওল্ড ঢাকা ক্রিকেটার্স, ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমি, বনানী ক্রিকেট ক্লাব, নাখালপাড়া ক্রিকেটার্স, মহাখালী ক্রিকেট একাডেমি, ধানমন্ডি ক্রিকেট ক্লাব, প্যাসিফিক ক্রিকেট ক্লাব ও স্যাফায়ার স্পোর্টিং ক্লাব।
এই সিদ্ধান্তে বর্তমান বিসিবি পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু, যিনি ভাইকিংস ক্রিকেট একাডেমির কাউন্সিলর ছিলেন, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েন। তবে নির্বাচনী কমিশন পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ হোসেনের কাছে বিষয়টি জানালে তিনি কোনো উত্তর দেননি।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচনী কমিশন জানিয়েছে, যদি ১৪টি ক্লাবের কাউন্সিলরদের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি থাকে, তবে ক্লাবের কাগজপত্র নিয়ে আজই নির্বাচন কমিশনে তা জানাতে হবে। ক্লাব প্রতিনিধিরা আজ আপত্তি জানাবেন বলে জানা গেছে।
সাবেক যুগ্ম সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, “নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ নৈতিকতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। আমরা প্রথমে আপত্তি জানাবো, যদি তা গ্রহণ না হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিএনপি সমর্থিত একজন ক্লাব কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি হস্তক্ষেপ নির্বাচনে স্বচ্ছতা নষ্ট করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণ অনুচিত। নির্বাচন বয়কট করে আইসিসিকে অবহিত করাই যথাযথ।”

