ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের আমলে ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা মীর কাশেম আলীর ছেলে ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাশেম আরমান গুম হওয়ার দুই সপ্তাহ আগে তিনটি উচ্চপদস্থ সূত্র থেকে সতর্ক বার্তা পান। শেখ পরিবারের একজন সদস্য, বিএনপির শীর্ষ নেতার সন্তান এবং এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জেনারেল তাকে দ্রুত দেশের বাইরে চলে যেতে বলেন।
তবে বাবা মীর কাশেম আলীর নির্দেশে আরমান দেশের বাইরে না গিয়ে দেশে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট তাকে বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয় এবং দীর্ঘ ৮ বছর আয়নাঘরে বন্দি জীবন কাটাতে হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর তিনি মুক্তি পান।
ব্যারিস্টার আরমান এই অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন তার বই ‘আয়নাঘরের সাক্ষী: গুম জীবনের আট বছর’-এ। বইতে তিনি লিখেছেন, তিনটি সূত্র থেকে সতর্কবার্তা পেয়ে নিজেকে বোঝাপড়া করতে শুরু করেন, কিন্তু বাবার সঙ্গে নিজের দায়িত্ববোধের কারণে দেশে থাকাটাই বেছে নেন। বন্দিত্বের সময় বাবা ও পরিবারের সঙ্গে সীমিত সাক্ষাতের সুযোগ থাকলেও আইনজীবী হিসেবে তিনি নিয়মিত দেখা করতে পেরেছিলেন।
আরমান বলেন, “বাবার নির্দেশে দেশে থাকা আমাকে দায়িত্বের প্রতি দৃঢ়তা শিখিয়েছে। অন্ধকারের মাঝেও আলোর পথ খুঁজে বের করার শিখন পেয়েছি।”

