ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় চলতি মৌসুমের আমন ধানের নমুনা শস্য কর্তন করা হয়েছে। পৌর শহরের দুর্গাপুর মাঠে বৃহস্পতিবার মো: দারু মিয়া নামে এক কৃষকের ক্ষেতের নমুনা শস্য কর্তন করা হয়। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষক খুবই খুশি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ আয়োজন করে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন আবাদে প্রায় ৪ হাজার ৪শ ১২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আমন ধান রোপণের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে ৯শ জন কৃষককে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে জমির তদারকি ও পরামর্শ দিয়ে কৃষকদেরকে সহযোগিতা করছেন। এদিকে আবহাওয়া অনুকুল সময়মতো বৃষ্টি, সেচ সুবিধা থাকাসহ জমির পরিচর্যার কারণে নির্ধারিক সময়ে ধান পাকতে শুরু করে। জমিতে ধানের ফলন কেমন হয়েছে তা দেখার জন্য ব্রিধান ১০৩ এর নমুনা শস্য কর্তন করা হয়। এতে দেখা যায় প্রতি বিঘায় ধানের ২০ মণ ফলন হয়েছে।
এদিকে পৌর শহরের দুর্গাপুর এলাকায় নমুনা ফসল কর্তনের সময় উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: মোস্তাফিজুর রহমান, কৃষক স্বপন মিয়া, মো: বাচ্চু মিয়া, মো: সাত্তার মিয়া, মো: আলমগীর হোসেন সহ প্রায় ১০ জন আদর্শ কৃষক উপস্থিত ছিলেন। তারা ধানের ফলন দেখে সন্তুষ প্রকাশ করেন।
কৃষক দারু মিয়া বলেন, চলতি আমন মৌসুমে এক বিঘা জমিতে ব্রি-১০৩ জাতের ধান আবাদ করা হয়। কৃষি অফিস থেকে সার বীজ দেওয়া হয়। জমিতে ধান কাটা হয়েছে। বিঘায় ফলন পেয়েছি ২০ মণ। এ ধান আবাদে খরচ কম ফলন ভালো হওয়ায় আমি খুবই খুশি।
আখাউড়া উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো: মোস্তাাফিজুর রহমান বলেন এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৪হাজার ৪ শ ১২ হেক্টর জমিতে আমন ধান করা হয়। ধান আবাদে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে বীজ ও সার প্রণোদনা হিসেবে দেয়া হয়। পাশাপাশি অনেক কৃষককে প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। শস্য কর্তনের পর মাড়াই-ঝাড়াই করে বিঘা প্রতি ফলন পাওয়া গেছে ২০ মণ। ফলন বৃদ্ধিতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ প্রদান করা হয়। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উপজেলার সর্বত্রই আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছি

