তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার তালতলী উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এনে এক নারীকে চারজন মিলে রাতভর দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে স্থানীয় একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নিলে ফজরের নামাজ শেষে মুসল্লিরা তাকে দেখতে পান। পরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি মুসল্লিদের সামনে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০–২৫ দিন আগে তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় একটি মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করতেন। সেখানে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের মানিক হাওলাদারের ছেলে হিরুনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে হিরুন তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। বিশ্বাস অর্জনের জন্য হিরুন একসময় ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর মাকে নিয়ে কুয়াকাটায় যান এবং বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করবেন—এমন আশ্বাস দেন তিনি।
এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে মঙ্গলবার বিকেলে হিরুনের সঙ্গে মহিপুর থেকে তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের বরপাড়া এলাকায় আসেন ভুক্তভোগী নারী। পরিবারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে হিরুন তাঁকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। কিন্তু রাতের বেলা হিরুনসহ আরও তিনজন ব্যক্তি তাঁকে মৃত্যুর হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গভীর রাতে অভিযুক্তরা একসঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে গেলে সেই সুযোগে ভুক্তভোগী নারী পালিয়ে পাশের একটি মসজিদের পাশে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই সারারাত অবস্থান করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী নারী বলেন, “পরিচয়ের পর বিয়ের কথা বলে আমাকে এখানে আনা হয়। রাতে চারজন মিলে আমার সঙ্গে পাশবিক আচরণ করেছে। আমি এর বিচার চাই।
একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, হিরুন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্থান থেকে নারীদের প্রেম ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে এনে ধর্ষণ ও নির্যাতন করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা ও নারী দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় মুসল্লি ফারুক বলেন, “ফজরের নামাজ শেষে বের হয়ে দেখি এক নারী মসজিদের পাশে বসে কাঁদছেন। জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, হিরুন নামের এক ব্যক্তি তাঁকে এখানে এনে চারজন দিয়ে সারারাত ধর্ষণ করেছে।
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

