শীতের ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রানওয়ের ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (আইএলএস)-এর আধুনিক সুবিধা ‘ক্যাটাগরি-২’ অকার্যকর হয়ে পড়ায় প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৮টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে চরম শিডিউল বিপর্যয়ে নাকাল হচ্ছেন যাত্রীরা।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান অবতরণের সময় রানওয়ের ‘হাই অ্যান্টেনা অ্যাপ্রোচ লাইট’ ক্ষতিগ্রস্ত করে। নিয়ম অনুযায়ী, আইএলএস ক্যাটাগরি-২ সুবিধা সচল রাখতে হলে রানওয়ের লাইটিং সিস্টেমের অন্তত ৯৫ শতাংশ কার্যকর থাকতে হয়। বর্তমানে এই হার কমে ৭৯ থেকে ৮৬ শতাংশে নেমে আসায় বিমানবন্দরটির সক্ষমতা ক্যাটাগরি-১-এ অবনমন করা হয়েছে। এর ফলে ৫০০-৭৫০ মিটার দৃশ্যমানতায় বিমান নামার সুযোগ থাকলেও এখন ১০০০ মিটারের নিচে দৃশ্যমানতা নামলে বিমান অবতরণ অসম্ভব হয়ে পড়ছে।
ঘন কুয়াশার কারণে গত দুই সপ্তাহে অর্ধশতাধিক ফ্লাইট কলকাতা, সিলেট, চট্টগ্রাম বা কক্সবাজারে ডাইভার্ট করা হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের জিএম কামরুল ইসলাম জানান, রানওয়ে দেখতে না পেয়ে পাইলটরা ঝুঁকি এড়াতে বিকল্প বিমানবন্দরে ল্যান্ড করছেন। এতে জ্বালানি খরচ বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে ফ্লাইট ডাইভার্ট হওয়ার তথ্য দেরিতে জানানোয় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন এ বিষয়ে বলেন, “রানওয়ের আইএলএস লাইট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমরা দ্রুত সংস্কারের চেষ্টা করছি। বিকল্প হিসেবে শাহজালালে নামতে না পারা ফ্লাইটগুলো কক্সবাজারে নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, রানওয়ের উত্তর দিকে সুউচ্চ ভবন থাকায় শাহজালালকে আইএলএস ক্যাটাগরি-৩-এ উন্নীত করা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব।
বেবিচকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউসার মাহমুদ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় লাইটগুলো বিদেশ থেকে আনার জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। তবে এগুলো স্থাপন করে পুনরায় ক্যাটাগরি-২-এ ফিরতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে।
অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, শীত মৌসুমের আগেই এই রক্ষণাবেক্ষণ শেষ করা উচিত ছিল। তার মতে, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত ত্রুটি সমাধানের অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যখন প্রায় শূন্য দৃশ্যমানতায় (ক্যাটাগরি-৩) বিমান নামানোর সক্ষমতা অর্জন করছে, তখন বাংলাদেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্যাটাগরি-২ ধরে রাখতে না পারাটা দুঃখজনক।

