আতাউর রহমান কাওছার,ওসমানীনগর (সিলেট) প্রতিনিধি:
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে জনবল সংকটের কারণে মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বালাগঞ্জের ৬টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি পার্শ্ববতী মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আরও কয়েকটি ইউনিয়নের নাগরিকরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সটিকে ৫০শয্যায় উন্নিত করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন শেষ হলেও দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনিক অনুমোদন মিলছে না। বতর্মানে আগের ৩১শয্যাতেই চলছে চিকিৎসাসেবা। আর এতে প্রতিদিন আগত রোগীরা মারাত্মক দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অবশ্য বিপুলসংখ্যক নাগরিকদের কাঙ্খিত সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৮ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ৪ জন, এছাড়া ২৫ জন নার্সের পদের মধ্যে আছে মাত্র ১১ জন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে ৩য় শ্রেণির ৬৮ টি পদের মধ্যে জনবল আছে ৪৭ জন,
৪র্থ শ্রেণির ১৯ টি পদের মধ্যে জনবল আছে ৪ জন।
এছাড়া জনবল সংকটের কারণে মাসে দুইদিন এক্স – রে, পরিক্ষা নিরীক্ষা, ও সপ্তাহে তিন দিন আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হচ্ছে ।
বালাগঞ্জ হাওর বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় দূর্ভোগ পোহাতে হয় প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা রোগীদের। বিশেষ করে গরিব অসহায় ডেলিভারি রোগীদের জেলা সদরের এম,এ,জি ওসমানী হাসপাতালে যাওয়া লাগে, অনেক সময় এতে রোগীর রাস্তায় প্রসব হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
স্হানীয় বাসিন্দা মাসুক মিয়া জানান, নামমাত্র চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে বালাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, হাসপাতালে নাই কোন অপারেশন থিয়েটার কিংবা উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম। প্রতিনিয়ত আমাদের চিকিৎসার জন্য ছুটতে হয় সিলেট এম,এ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অনেক পথ পাড়ি দিতে গিয়ে অনেক রুগির শারিরীক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত । বালাগঞ্জ বাসী চান জনবল সংকট নিরসন সহ উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম ও স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.হেপি দাস বলেন , উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ৪০/৪৫ জন রোগী ভর্তি থাকেন, কিন্তু সরকারি অনুমোদন ৩১ জনের থাকায় অতিরিক্ত রোগীদের ঔষধ ও সরঞ্জাম দিয়ে সরবরাহ করতে পারি না, রোগীদের হাসপাতালের মেঝেতে জায়গা দিতে হয় এবং মাঝে মাঝে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয়। স্বাস্থ্য ব্যবস্হা মূলত ডাক্তার এবং নার্সের উপর নির্ভর করে, যার দরুন গুনগত সেবা দিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

