এম.শাহীন আল আমীন,জামালপুর জেলা প্রতিনিধি :
ক্লাশের পরিবর্তে মারমারি ও ঝগড়ার খনিতে পরিনত হয়েছে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলাক্ষিয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলে। ২০২১ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ঘটনা চলমান আছে। মামলাও হয়েছে একাধিক। অনিয়মের লিখিত আবেদন পড়েছে ১ হাজার ২০০টি।
এ কারণে স্কুলে পড়া লেখার বিঘœ ঘটছে। অচলাবস্থা বিরাজ করছে স্কুলের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। নিয়ন্ত্রনহীন হয়ে পড়েছে স্কুলের প্রশাসনিক ব্যবস্থা। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগও অসহায় অবস্থায় হাত গুটিয়ে নীরবতা পালন করছে। ফলে দিন ঘটনা ভয়বহ হয়ে উঠছে।
নীলাক্ষিয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলের বর্তমান বয়স ৯২ বছর। ১৯৩৫ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা হয়। প্রাচীনতম এ স্কুলে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ শতাধিক। শিক্ষক ১০ জন।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২১ সাল থেকে। প্রধান শিক্ষক না থাকার পরেও সিনিয়র ৪ জন শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নেননি। তখন প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব গ্রহন করেন সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় ভদ্র।
এর পর থেকেই শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এই অবস্থায় প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব গ্রহন করেন সহকারী শিক্ষক আজাদ হোসেন।
তখন থেকেই চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাদ হোসেন ও সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় ভদ্রের মধ্যে দ্বন্দ্বের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
আজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি টাকা আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ তুলে ধরেন সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় ভদ্র। সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় ভদ্রের বিরুদ্বেও পাল্টা অভিযোগ করেন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাদ হোসেন।
নীলাক্ষিয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ হাজার ২০০টি। অভিযোগের সংখ্যা নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনও বিব্রত।
শিক্ষার্থী অভিভাবক ও এলাকার শিক্ষানুরাগীরা শতবার সালিশ দরবার করেও ঘটনার ইতি টানতে পারেনি। দিন দিন উক্ত স্কুলে পাঠদানের পরিবর্তে মারিমারি ও ঝগড়ার কারখানায় পরিনত হয়েছে।
দুই শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতি ও শারিরীক আঘাত নিয়মিত ভাবেই চলমান আছে। একাধিক মোবাইল ভাঙ্গার ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।
শিক্ষার্থীরা দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল ও ক্লাশ বর্জনও তরতে বাধ্য হয়েছে। স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থী অভিভাবকরা একাধিকবার মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। তবে দ্বন্দ্বের অবসান হয়নি।
এব্যাপারে শিক্ষার্থী অভিভাবক প্রভাষক আব্দুল মাজেদ সরকার বলেন, নীলাক্ষিয়া সরকারি প্রাইমারী স্কুলে বর্তমানে শিক্ষার পরিবেশ নেই। শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষকরা মারামারি, হাতাহাতি ও ঝগড়া বিবাদ করে আসছে। অশালিন আচরন করছে। এই পরিবেশ বিদ্যমান থাকলে শিক্ষার্থীরা উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।
প্রবীন ব্যাক্তি সজু মিয়া বলেন, ২০২১ সাল থেকে যে সকল কার্যকলাপ শুরু হয়েছে তাতে স্কুল ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে। এ স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরেয়ে আনতে হলে প্রশাসন, জন প্রতিনিধি ও এলাকার শিক্ষানুরাগীদের জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে।
অভিভাক শাহজাহান আলী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শক্ত ভূমিকা না নিলে স্কুলে যে কোন সময় আইন শৃংখলার চরম বিঘœ ঘটতে পারে।
এব্যাপারে সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় ভদ্র বলেন, চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাদ হোসেন আমাকে শারিরীক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। তার নির্যাতনে আমি অতিষ্ট। আজাদ হোসেনের কারনেই স্কুলে বিশৃংখলা পরিবেশ বিদ্যমান। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কল্যানে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ চাই।
চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজাদ হোসেন পাল্টা অভিযোগ করেছেন সহকারী শিক্ষক সঞ্জয় ভদ্রের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, তার আচরনে স্কুলের স্টাফ ও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ট। এ সমস্যা সমাধান না হলে শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভবনা। তিনি সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা নিবাহী অফিসার মুরাদ হোসেন জানান, নীলাক্ষিয়া স্কুল বিষয়ে সব কিছু অবহিত হওয়ার পর উর্ধ্বতম কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এবং বিষয়টির সমাধান হবে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্ম আলী আহসান বলেন, বিষয়টি উর্ধবতম কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। মামলার প্রস্তুতি চলমান আছে। সহসায় নির্দেশনা মোতাবেক বিভাগীয় মামলা দায়ের হবে।

