শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলারচরের আলোরকোলে সোমবার (৩ নভেম্বর) থেকে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহাসিক রাস উৎসব। বঙ্গোপসাগরের তীরে প্রায় ২০০ বছর ধরে চলে আসা এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে ঘিরে সুন্দরবনে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
এদিকে, রাস উৎসবে আগত তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। উৎসবস্থল ও আশপাশের বনের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হরিণ ও বন্যপ্রাণী শিকার রোধ এবং দস্যু দমনে নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বলেন, “রাসপূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের জানমালের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড সার্বক্ষণিক কাজ করছে। উৎসবকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে আমাদের একাধিক স্টেশন ও আউটপোস্টের সদস্য এবং ডুবুরি দল প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাসপূর্ণিমার পূজা ও পুণ্যস্নান উপলক্ষে আসা তীর্থযাত্রীদের যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনে দ্রুত সেবা পেতে ১৬১১১ এই জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এবারের রাস উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “রাস উৎসবকে কেন্দ্র করে উৎসবস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি হরিণ শিকার ও দস্যু দমনে বন বিভাগ, কোস্টগার্ড ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এবছর রাসপূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রায় ১০ হাজার তীর্থযাত্রী উপস্থিত হয়েছেন। আগামী বুধবার (৫ নভেম্বর) ভোরে সূর্যোদয়ের সময় সাগরের প্রথম জোয়ারের লোনা জলে পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে এই উৎসবের।

