শাহজাহান আলী মনন, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর সৈয়দপুর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রেজাউল করিম রেজা সাধারণ মানুষকে আওয়ামী লীগ বানিয়ে আটক করে হয়রানি করছেন। অথচ বড় বড় রাঘববোয়ালরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও নির্বিকার। এমন অভিযোগ করেছেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) রাতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে আগমন উপলক্ষে স্বাগত র্্যালী উপলক্ষে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও নীলফামারী-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার।
প্রধান অতিথি বলেন, প্রশাসন তথা সরকার ফ্যাসিস্টদের ছাড় দিয়ে প্রকৃত অর্থে দেশকে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ফেলেছে। যে কারণে তাদের দোসররা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছে। কিন্তু আমরা জাতীয়তাবাদী শক্তি কোনভাবেই আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসরদের আর দেশ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার সুযোগ দিবোনা। নীলফামারী-৪ আসনে এমন সুযোগ সন্ধানীদের উচিত জবাব দেয়া হবে।
বিশেষ অতিথি শাহিন আক্তার শাহিন আরও বলেন, মূলতঃ প্রশাসনের উপর পতিত ফ্যাসিস্টরা এখনও ভর করে আছে। যে কারণে আগের সেই দালালরা এখনও সৈয়দপুর থানায় বেপরোয়া কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দালালদের খপ্পরে পড়ে আর যদি একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে ধরে আনা হয় তাহলে সৈয়দপুর থেকে ওসিকে তাড়াতে যা করা দরকার তাই করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দপুর আমাদের শহর। এর ভালো মন্দ আমরাই দেখেছি, আগামীতেও দেখবো। ওসি ফ্যাসিস্টের দোসর হয়ে সৈয়দপুরের পরিবেশ নষ্ট করছেন। সেজন বড় বড় রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে নিরীহ লোকজনকে ধরছেন। যারা দীর্ঘদিন আমাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে, যারা জুলাইয়ে গুলি করেছে, বিএনপি অফিসে হামলা করে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা এখনও দাপটের সাথে চলছে।
তাদের প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে প্রশাসন। এর মাধ্যমে বিএনপির ঘাঁটি সৈয়দপুরের মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মূলত: ধানের শীষের নিশ্চিত বিজয়কে নস্যাৎ করার পায়তারা করা হচ্ছে। এটা শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা কখনোই বরদাস্ত করবোনা। প্রয়োজনে পুলিশের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে যাবো, নয়তো সৈয়দপুরবাসীকে নিয়ে এই অপচেষ্টা রুখে দিবো।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে সৈয়দপুর সরকারি কলেজের শরীর চর্চা শিক্ষক, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আহসান উদ্দিন বাদলকে আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আটক করে পুলিশ। এখবরে মূহুর্তেই সমালোচনা শুরু হয় শহরজুড়ে। থানায় ছুটে যায় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহীন আক্তার শাহিন ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শফিকুল ইসলামসহ বেশ কয়েজন নেতা, প্রেসক্লাবের আহবায়ক শওকত হায়াত শাহসহ কয়েকজন সাংবাদিক ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট নেতৃস্থানীয় লোকজন।
তারা আহসান উদ্দিন বাদলকে আটকের কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, তিনি আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ গ্রহণকারী। এমন ছবি আমাদের কাছে আছে। তাই অপারেশন ডেভিল হান্ট এর দ্বিতীয় পর্বের অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অথচ বাদল মনে প্রাণে একজন বিএনপি সমর্থক। যা সৈয়দপুরের সর্বজন বিদিত। এমনকি আওয়ামী লীগের কোন কমিটি বা কর্মকাণ্ডের সাথে কস্মিনকালেও যুক্ত ছিলেন না।
নেতৃবৃন্দ তাই ওসিকে বলেন, আপনি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে ধরেছেন, তাঁকে ছেড়ে দেন। এমন অনুরোধে ওসি কর্ণপাত না করে উল্টো অশোভন আচরণ করেন। ফলে থানায় চরম বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে বিপর্যস্তকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে অবস্থা শোচনীয় হলে মুচলেকা নিয়ে আটক শিক্ষককে ছেড়ে দেন ওসি।
অথচ জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সৈয়দপুরে দুইটি মামলা হয়েছে। এই মামলার এজাহার ভুক্ত আসামীরা বহাল তবিয়তে সৈয়দপুরেই অবস্থান করছে। তাদের আটকে পুলিশের কোন তৎপরতা নাই। মাঝে মাঝে শুধু চুনোপুঁটি দুই একজন ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আটক করে হয়রানিই করা হয়েছে।
এব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রেজাউল করিম রেজার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালন করেছি। এতে কে মনোক্ষুণ্ণ বা কে কি মন্তব্য করলো তা আমার ধর্তব্য নয়।

