জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখভাগের যোদ্ধা এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর অফিসে হামলা চালানো হয়েছে। দুটি গণমাধ্যমের ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বেলা ২টা ৪২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে তিনি লিখেছেন, “গত রাতে দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোতে কর্মরত আমার সাংবাদিক বন্ধুদের কাছ থেকে সাহায্যের জন্য আতঙ্কিত, অশ্রুসিক্ত ফোন কল পেয়েছিলাম। আমার সব বন্ধুদের কাছে আমি গভীরভাবে দুঃখিত, আমি তোমাদের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছি। তোমাদের সাহায্য করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় অসংখ্য ফোন করেছি, কিন্তু সেই সহায়তা সময়মতো পৌঁছায়নি।”
প্রেস সচিব আরও জানান, “দ্য ডেইলি স্টার ভবনের ভেতরে আটকে পড়া সব সাংবাদিককে উদ্ধারের পর ভোর ৫টায় আমি ঘুমাতে যাই। কিন্তু ততক্ষণে এই দুটি সংবাদমাধ্যম দেশের ইতিহাসে গণমাধ্যমের ওপর সংঘটিত অন্যতম ভয়াবহ হামলা ও অগ্নিসংযোগের সাক্ষী হয়ে গেছে।”
শফিকুল আলম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরও লিখেছেন, “আমি জানি না কোন শব্দ দিয়ে তোমাদের সান্ত্বনা দেব। একজন সাবেক সাংবাদিক হিসেবে শুধু বলব, আমি দুঃখিত। লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছি।”
এদিকে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় পত্রিকা দুটির সম্পাদকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি জানিয়েছেন, সরকার সংবাদপত্র দুটির পাশে রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আপনাদের প্রতিষ্ঠান ও সংবাদকর্মীদের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যক্কারজনক হামলা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আপনারা এই দুঃসময়ে জানুন, সরকার আপনাদের পাশে আছে।”

