২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ ও কারিগরি এবং মাদরাসা বোর্ডসহ মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
২০২৪ সালে গড় পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সেই হিসেবে এবার পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে দেশের সব শিক্ষা বোর্ড একযোগে এই ফলাফল প্রকাশ করে। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দোকার এহসানুল কবির সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।
বোর্ড প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ ওয়েবসাইটের www.educationboardresults.gov.bd ঠিকানার ‘রেজাল্ট কর্নার’-এ ক্লিক করে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর দিয়ে ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবে। শিক্ষার্থীরাও একই ওয়েবসাইট ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ফল জানতে পারবে।
এ ছাড়া মোবাইলে ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল জানা যাবে। তবে শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি ফল পাওয়া যাবে না বলে জানানো হয়েছে।
ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে ১৭ অক্টোবর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত। আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে করতে হবে— ওয়েবসাইট https://rescrutinu.eduboardresult.gov.bd-এর মাধ্যমে। আবেদন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত নির্দেশনা শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২৬ জুন এবং শেষ হয় ১৯ আগস্ট। নির্ধারিত সময়ের কিছুদিন পর স্থগিত হওয়া কয়েকটি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হয়।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন ছাত্র এবং ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন ছাত্রী। প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। ফলে ফলাফলের অপেক্ষায় ছিলেন প্রায় সোয়া ১২ লাখ পরীক্ষার্থী।
বোর্ডভিত্তিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী ঢাকা বোর্ডে ২ লাখ ৯১ হাজার ২৪১ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৪২ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ১৬ হাজার ৩১৭ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ লাখ ৩৫ জন, বরিশাল বোর্ডে ৬১ হাজার ২৫ জন, সিলেট বোর্ডে ৬৯ হাজার ৬৮৩ জন, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ৩ হাজার ৮৩২ জন, এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে ৭৮ হাজার ২৭৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে (আলিম) পরীক্ষার্থী ছিলেন ৮৬ হাজার ১০২ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ ৯ হাজার ৬১১ জন।
আজ দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ফল একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে।

